1 / 225% OFF
Cash on delivery available
বাংলাদেশে বাংলা-সাহিত্যে হিন্দু ও মুসলমানের দান সম্পর্কে যদি স্বতন্ত্রভাবে বিচার করা চলে, তাহা হইলে বলিতে হইবে একদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যে স্থান, অন্যদিকে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ প্রণেতা মীর মশাররফ হোসেনের স্থান ঠিক অনুরূপ। এদেশের মুসলমান সমাজে তিনিই সর্বপ্রথম সাহিত্যশিল্পী এবং এখন পর্য্যন্ত তিনিই প্রধান সাহিত্যশিল্পী হইয়া আছেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ‘সীতার বনবাস’ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে যেমন এককালে পঠিত হইয়াছিল, ‘বিষাদ-সিন্ধু’ তেমনই আজও পর্য্যন্ত জাতীয় মহাকাব্যরূপে বাঙালী মুসলমানের ঘরে ঘরে পঠিত হয়; বাংলা-সাহিত্যের অপূর্ব্ব সম্পদ হিসাবে সকল সমাজেই এই গদ্যকাব্যখানির সমান আদর। আর একটি কথা, আজ তাঁহার সম্পর্কে আমাদের স্মরণীয়- তিনি জীবনে এবং সাহিত্যে সকল সাম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে ছিলেন, হিন্দু মুসলমান বঙ্গমাতার এই দুই বিবদমান সন্তানের মিলনসাধনের জন্য আজীবন চেষ্টা করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার সাহিত্য প্রতিভা এমনই উচ্চশ্রেণীর ছিল যে, সুদূর অতীতের কারবালা-প্রান্তরের ট্র্যাজেডীকে তিনি সমগ্র বাংলা ভাষাভাষীর ট্র্যাজেডী করিয়া তুলিতে পারিয়াছেন। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের এই প্রতিভাবান সাহিত্যিককে আজ আমরা নামেমাত্র চিনি, তাঁহার জীবনীর এবং জীবনের সকল কীর্ত্তির পরিচয় তাঁহার স্ব-সমাজের লোকও রাখেন না। -ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলাদেশে বাংলা-সাহিত্যে হিন্দু ও মুসলমানের দান সম্পর্কে যদি স্বতন্ত্রভাবে বিচার করা চলে, তাহা হইলে বলিতে হইবে একদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যে স্থান, অন্যদিকে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ প্রণেতা মীর মশাররফ হোসেনের স্থান ঠিক অনুরূপ। এদেশের মুসলমান সমাজে তিনিই সর্বপ্রথম সাহিত্যশিল্পী এবং এখন পর্য্যন্ত তিনিই প্রধান সাহিত্যশিল্পী হইয়া আছেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ‘সীতার বনবাস’ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে যেমন এককালে পঠিত হইয়াছিল, ‘বিষাদ-সিন্ধু’ তেমনই আজও পর্য্যন্ত জাতীয় মহাকাব্যরূপে বাঙালী মুসলমানের ঘরে ঘরে পঠিত হয়; বাংলা-সাহিত্যের অপূর্ব্ব সম্পদ হিসাবে সকল সমাজেই এই গদ্যকাব্যখানির সমান আদর। আর একটি কথা, আজ তাঁহার সম্পর্কে আমাদের স্মরণীয়- তিনি জীবনে এবং সাহিত্যে সকল সাম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে ছিলেন, হিন্দু মুসলমান বঙ্গমাতার এই দুই বিবদমান সন্তানের মিলনসাধনের জন্য আজীবন চেষ্টা করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার সাহিত্য প্রতিভা এমনই উচ্চশ্রেণীর ছিল যে, সুদূর অতীতের কারবালা-প্রান্তরের ট্র্যাজেডীকে তিনি সমগ্র বাংলা ভাষাভাষীর ট্র্যাজেডী করিয়া তুলিতে পারিয়াছেন। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের এই প্রতিভাবান সাহিত্যিককে আজ আমরা নামেমাত্র চিনি, তাঁহার জীবনীর এবং জীবনের সকল কীর্ত্তির পরিচয় তাঁহার স্ব-সমাজের লোকও রাখেন না। -ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়