1 / 230% OFF
Cash on delivery available
বই সংক্ষেপ:-ক্যামেলিয়া: মহুত সাহেব,আমার বাবার খুনিকে এনে দিন। বিনিময়ে আমি আপনাকে আমার ইহজন্ম দান করিব। সাথে সাথে স্ক্রিন বন্ধ হয়ে গেল। চেষ্টা করেও আর অন করা গেল না। পাসওয়ার্ড অটোমেটিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেদিকে মাশহুদের কোন খেয়াল নেই। কাঙ্খিত কোনো বস্তুকে এতোটা কাছ থেকে পেয়েও হারিয়ে ফেলার আফসোস তার মাঝে দেখা যাচ্ছে না। এর পরিবর্তে তার মুখ ফুটে উঠেছে এক ভালবাসার দ্যুতি। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইল সে। ঘড়িটা চলছে না। জাফরিন ঘড়িটা খোলার পর আর ঠিক করতে পারিনি। মাশহুদ চাইলে ঠিক করতে পারে কিংবা অবশ্যই নতুন একটা ব্যবহার করতে পারে। তবে সে করছে না। বন্ধ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে প্রসারিত অধরে স্মিত হাসিটা ঝুলিয়ে সে মনে মনে আওড়ালো ক্যামেলিয়া…… প্রিয় বেগম: দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে বীর সম্রাট অন্ধকারে ঢেকে থাকা রূপনগরের বুকে জ্বলন্ত মশাল হয়ে আলোর শিখা জ্বালিয়ে রেখেছিল, যার বজ্রগর্জনে থরথর করে কেঁপে উঠত স্বৈরশক্তির অন্তঃকরণ, যার এক আহ্বানে হাজারো সৈন্য যুদ্ধবাজ সিংহের ন্যায় প্রাণপণে ছুটে যেত রণাঙ্গনে, দুর্গম দুর্গ দখলে নিয়ে দানবীয় শক্তিকে ধূলিসাৎ করে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে যে ফিরত বীরোচিত মহিমায় স্নাত হয়ে, তারই শাসনের উজ্জ্বল রাজপথে অন্ধকার নামিয়ে আনতে, তারই গড়েপিটে তোলা সিংহাসনের পায়াতলায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলতে সুলতান মহলের চৌকাঠে পা রাখা সেই রহস্যঘেরা দুঃসাহসী রমণীটি কে? বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই নারীর আগমন কি শুধুই বিদ্রোহ নাকি নতুন কোনো ষড়যন্ত্র? ষড়যন্ত্রের পরিণতি হিসেবে হারবুস সিয়াদাহ যুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে সত্য মিথ্যার সবচেয়ে ভয়ংকর সংঘাতে মুখোমুখি দুই বিপরীত শক্তির লড়াইয়ের পরিণতিতে কি উড়বে সত্যের নিশান? ধ্বনিত হবে কি জনতার কণ্ঠে প্রতিরোধের জয়গানইনকিলাব জিন্দাবাদ? নাকি রক্তাক্ত যুদ্ধের ময়দানে চিরতরে ডুবে যাবে রূপনগরের লাল সূর্য? আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে:অদৃশ্য এক মায়াবী স্বপ্নঘোর মুহূর্তেই মন ভালো করে দিয়ে যায়। অদ্ভুত এক অনুভুতি মনপিঞ্জরে সুখের আভাস ছড়ায়। হৃদয়ে প্রণয়ের মোহ জাগায়। গোধূলিবেলার রোদ্রময়ী আকাশ দেখে অজান্তেই বক্ষস্পন্দন কম্পিত হয়। হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে প্রবলভাবে কারো শূন্যতা অনুভব করে। এই শূন্যতার নাম নেই, রং নেই আর কোনো রূপও নেই। শহরের বুকে সন্ধ্যে নামলে নিয়নবাতির হলদে আলোর ভিড়ে সেই শূন্যতা বিলীন হয়ে যায়। মেঘ আনমনে নিজেকে প্রশ্ন করে, "কাকে মিস করি আমি? আর কেনোই বা মিস করি?" বর্ষণের অশ্রান্ত আকাশের মতো প্রশ্নগুলোও বিধ্বস্ত প্রায়। যার উত্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আবার কখনো-সখনো মনে হয় কারো আরত্তে আবদ্ধ হয়ে আছে। কেউ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে তাকে আর ক্ষণেক্ষণে কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে যাচ্ছে, "আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে।"