1 / 225% OFF
Cash on delivery available
গিভ এন্ড টেক- প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা ব্যক্তিগত সফলতার পেছনে ক্রিয়াশীল প্রধাবনাগুলোকে কেবল : গভীর অনুরাগ, কঠোর পরিশ্রম, মেধা আর ভাগ্যÑ এই চার নামে আখ্যায়িত করে চলেছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের সফলতা আমরা অন্যদের সাথে কী আচরণ করছি বা আমাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াকে আমরা কীভাবে পরিচালিত করছি, তার উপরেও অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের কাছে আজ এটা আরো স্পষ্ট যে কর্মক্ষেত্রে আমরা হয়তোবা দাতা, অথবা গ্রহীতা কিংবা সামঞ্জস্য বিধানকারীদের মতো আচরণ করি। যেখানে গ্রহীতাগণ অন্যদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব নিতে আগ্রহী আর সামঞ্জস্য বিধানকারীরা সমানে সমানে বাণিজ্য করতে চান, সেখানে দাতাগণ একেবারে বিরলপ্রজ। দাতাগণ কোনো ধরণের বিনিময়ের আশা না করে অন্যের জন্য করে যান। আর শেষ হাসিটি কেবল দাতারাই হাসতে পারেন। কারণ তারাই হচ্ছেন ‘যতটা মেধাবী, ততটাই জ্ঞানী। দ্য পাওয়ার অব সেলফ মাইন্ড কন্ট্রোল- ইচ্ছা শক্তি মানব জাতিকে সবার থেকে আলাদা করে রাখে। ইচ্ছা হলো নিজের সাধ, অভিপ্রায় কিংবা বাসনা কিংবা ব্যক্তি যা করতে চায়। কোনো ব্যক্তির কাজ করার শখ বা ইচ্ছা হওয়ার কারণেই সে কাজ করতে শুরু করে। অন্যদিকে, অনেক কাজ করার ইচ্ছা বা অভিপ্রায় হলেও সে অনুসারে তা না করলে, তখন সেটা হয়ে যায় দিবাস্বপ্ন। ‘দ্য পাওয়ার অব সেলফ মাইন্ড কন্ট্রোল’ বইটিতে লেখক বার্ট গোল্ডম্যান মানব ইচ্ছা শক্তি নির্বাচন ও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক সম্মত আলোচনার মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যেÑ কিছু মানুষ জীবনের শুরুতেই তাদের ইচ্ছাকে নির্বাচন করতে পারেন না। আবার কেউবা বিষয়টি দেরিতে বুঝতে পেরে তা নির্বাচন করেন। কিন্তু এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক হয় তার জন্যÑ যে কখনোই তা নির্বাচন করতে পারেন না। যেভাবে প্রয়োজন পৃথিবীকে মানুষ নিজের মতো করে দেখতে চায়। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো বলবেÑ আমরা তো পৃথিবীকে সমানভাবে দেখি। এটা সবার জন্য একই রকম। সত্যিকার অর্থে, পৃথিবীটা সবার জন্য একই রকম হতে হবে কিংবা একই রকম থাকবে এর কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। এখানেই মানুষের স্বাধীনতা নিহিত। একজন মানুষ যেভাবে নিজের পৃথিবীকে চান সেটাই তার জন্য প্রযোজ্য হবে। লেখক বার্ট গোন্ডম্যান এ বিষয়টিকেই মূলত তুলে ধরেছেন এই বইটিতে। যারা নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জীবনে সফলতা অর্জন করতে চান তাদের জন্য এই বইটি নিঃসন্দেহে সহায়ক হবে। তরুণ ও মেধাবী অনুবাদক সাখাওয়াত মজুমদারের সাবলীল অনুবাদে বইটি হয়ে ওঠেছে আরো সহজপাঠ্য। দ্য কম্পাউন্ড ইফেক্ট- এ বইটি সাফল্য সম্পর্কে লেখা হয়েছে। সেই সাথে সফলতা অর্জন করতে কী কী করতে হবে, সেটা সম্পর্কেও এ বইটিতে লেখা হয়েছে। এখনই সময় যখন কেউ একজন আপনাকে এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলবে কিংবা কারো এ বিষয়ে বলা উচিত। আপনি এ বিষয়ে অনেকদিন ধরেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আসলে এ বিষয়ে কোনো ম্যাজিক বুলেট কিংবা কোনো গোপন ফর্মুলা নেই ৷ অথবা দ্রুতগতিতে কোনো পিক্স করার মতো ব্যাপার নেই । আপনি দৈনিক কেবল ২ ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেটে সময় দিলেই প্রতি বছরে নির্ধারিতভাবে ২০,০০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারবেন না। এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ওজন ৩০ পাউন্ড কমে যাবে না। কোনো ক্রিম মেখে আপনি নিজের চেহারা থেকে ২০ বছর বয়স কমিয়ে ফেলতে পারবেন না। নিজের প্রেমময় জীবনকে আপনি কোনো নির্দিষ্ট পিল খেয়েই ঠিক করে নিতে পারবেন না। অথবা অন্য যে কোনো ধরনের স্কিমে আপনি দীর্ঘস্থায়ী সফলতা পাবেন না। এটা অবশ্যই ভালো হতো যদি আপনি নিজের জন্য সাফল্য, সুনাম, আত্মবিশ্বাস, সুন্দর- স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক, সুস্বাস্থ্য আর ভালো থাকাকে স্থানীয় কোনো ওয়ালমার্টের সাজানো তাকের উপর থেকে হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে কিনে আনতে পারতেন। কিন্তু এটা কখনোই সম্ভব নয় । আমরা ধারাবাহিকভাবে আরো বেশি ধনী হওয়ার, আরো ফিট হয়ে ওঠার, আরো তরুণ হওয়ার, আরো সেক্সি হওয়ার শিহরণ জাগানো বিভিন্ন দাবি-দাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হই... আর এ সবকিছু হবে একেবারে রাতারাতি কেবল ৩৯.৯৫ ডলারের বিনিময়ে। এ ধরনের বার বার কানের কাছে বেজে চলা মার্কেটিং ম্যাসেজগুলো আসলে সফলতার জন্য কী প্রয়োজন সেই বিষয়ে আমাদের মূল চিন্তার স্রোতকে বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে। তাই এখন আমরা সফলতার জন্য আসলে কী প্রয়োজন এই সহজ অথচ গভীরতর জ্ঞানের প্রতি দৃষ্টিপাত করার মতো ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলেছি।