18% OFF
Cash on delivery available
সুমাইয়াহ্ তাসনীম মোহনা আজ যে ঘটনা আপনাদের শোনাতে যাচ্ছি, সেটা একেবারে নিখাদ সত্য। স্মৃতিগুলো আজও মনের মাঝে এতটা উজ্জ্বলভাবে গেঁথে আছে যেন মাত্র গতকালের কথা। অথচ সেই রাতের পর পেরিয়ে গেছে বিশটি বছর। এতগুলো বছরে গল্পটা মাত্র একজনকেই বলেছি। এবং আজ রাতে তীব্র অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঘটনাটা খুলে বলব। বিশেষভাবে অনুরোধ করব, আমার ওপর জোরপূর্বক মতামত চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা আমি চাই না, কোনও তর্ক করার ইচ্ছেও নেই। আমার মন এ ব্যাপারে বেশ স্থির। নিজের বোধশক্তির ওপর নির্ভর করে সেই অনুযায়ী চলার মত বিশ্বাসও ধারণ করে। বেশ তো, ঘটনাটা বছর বিশেক আগের। বনমোরগ শিকারের মরসুম শেষ হতে আর মাত্র এক বা দু'দিন বাকি। সারাদিন বন্দুক ঘাড়ে নিয়ে বনে বনে ঘুরেছি, বলার মত অন্য কোনও শখও ছিল না। ডিসেম্বর মাস- হু হু করে পশ্চিমা বাতাস বইছে। সর্বোত্তর ইংল্যান্ডের নিরানন্দ, বিস্তীর্ণ জমিতে পথ হারালাম আমি। পথ হারানোর জন্য এরচেয়ে বাজে জায়গা আর হয় না। এদিকে তুলোর মত তুষারকণা ঝড়ের পূর্বাভাস হয়ে নেমে আসছে আকাশ থেকে, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে চারদিকে। ঘনায়মান আঁধারের মাঝেই হাত দিয়ে চোখদুটো আড়াল করে তাকিয়ে রইলাম দিগন্তের দিকে, যেখানে জলাভূমির বেগুনি সীমানা ছোট ছোট পাহাড়ের একটা সারির সাথে মিলেমিশে গেছে, এখান থেকে প্রায় দশ-বারো মাইল দূরত্ব। ধোঁয়ার সামান্যতম নিশানাও আমার চোখে পড়ল না। এক টুকরো চাষের জমি, বেড়া বা ভেড়ার পাল- কিছুই দেখলাম না দৃশ্যপটে। পায়ে হেঁটে একটা আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার। তাই বন্দুকটা ঘাড়ে ফেলে ক্ষীণপায়ে হাঁটা শুরু করলাম। মাত্র ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নেওয়া ছাড়া সারাদিন পায়ে চলার ওপরেই ছিলাম, সকালে নাস্তার পর থেকে কিছুই পড়েনি পেটে। এরই মধ্যে বাতাস পড়ে গেল, তুষারঝড়টা অশুভ ভঙ্গিতে জমে উঠেছে আস্তে আস্তে। শীত আরও তীব্র হয়ে উঠল, রাত ঘনিয়ে এলো দ্রুত। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ দেখে আমার হৃদয় ভারি হয়ে উঠল তরুণী স্ত্রীর কথা ভেবে। হয়তো সরাইখানার ছোট পার্লারের জানালাটা দিয়ে তাকিয়ে আছে সে। আজকের এই দুর্যোগের রাতে কতই না ভোগান্তি পোহাতে হবে বেচারিকে! আমাদের বিয়ের মাত্র চার মাস—