1 / 318% OFF
Cash on delivery available
ইমোশনাল ব্র্যান্ডিং- বাংলা ভাষায় ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বই মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। সে কারণেই হয়তো বাংলাদেশে উৎপাদিত পন্যগুলো দেশে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে শিল্প উদ্যোক্তারা এখনও বেচাকেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। অর্থ্যাৎ যেনতেন ভাবে বিক্রিকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশে মার্কেটিং, সেলস ইত্যাদি চলছে। বাংলাদেশে খুব কম কোম্পানি রয়েছে যারা ব্র্যান্ডিং করার জন্য প্রফেশনালি চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ কোম্পানি এখনও ব্র্যান্ডিংকে পাত্তা না দিয়ে বিক্রিকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে দেশে কিংবা বিদেশে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছেনা। যাইহোক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের কিংবা সার্ভিসের দীর্ঘমেয়াদী গ্রোথ এবং প্রফিট পেতে হলে ব্র্যান্ডিং ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই। ব্র্যান্ডিং ছাড়া মার্কেটিং এবং সেলস গুরুত্বহীন। ব্র্যান্ডিং করতে হলে ইমোশনাল ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। অর্থ্যাৎ ইমোশনাল ব্র্যান্ডিং ছাড়া ব্র্যান্ডিং করাটা অনেকটা গুরুত্বহীন। পৃথিবীর সকল সেরা ব্র্যান্ড এবং সেরা সার্ভিস ব্র্যান্ডের কৌশল বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি সর্বত্রই ইমোশনাল ব্র্যান্ডিংকে প্রাধান্য দিয়ে ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আমি আশা করছি, ইমোশনাল ব্র্যান্ডিং নামক এই বইটি বাংলাদেশে ব্র্যান্ড প্রাকটিশনারসদের জন্য একটি রেফারেন্স বই হিসেবে কাজে লাগবে কারন এই বইটি হবে বাংলা ভাষায় লেখা ইমোশনাল ব্র্যান্ডিং বিষয়ক প্রথম বই। এই বইতে পাঠক পাবেন কীভাবে একটি সফল ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য ইমোশনের ব্যবহার করতে হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ই কমার্স- ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। ই-কমার্স নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর দক্ষতার অভাবে তা কখনো কখনো ফিকে হয়ে যায়। ই-কমার্স নিয়ে দুটো বই প্রকাশের পর পাঠকদের ব্যাপক আগ্রহ ও অনুরোধের কারণে ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ই-কমার্স বইটিতে হাত দিতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমান সময়ের সোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে অনলাইন উদ্যোক্তাগণ যেন তাদের পন্যের প্রচার প্রসার করতে পারে সে আলোকে বইটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। এছাড়া গুগল অ্যাড, গুগল এনালিটিক্স, কনটেন্ট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিংসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছবি ও ফিচারের সাথে কৌশলগত দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। একজন অনলাইন উদ্যোক্তা অথবা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বইটি অবশ্যপাঠ। আজকের ছাত্র এবং ভবিষ্যতের উদ্যোক্তারাও এর থেকে দিক নির্দেশনা পাবে। আর যারা তাদের প্রচলিত ব্যবসায়ের অনলাইন মার্কেটিং করতে চান তারাও এক থেকে নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। আগামী দিনের ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্যও এটি একটি গাইড বই। আশা করি তরুণ পাঠক ও উদ্যোক্তারা বইটি থেকে উপকৃত হবেন। ডিজিটাল যুগে মার্কেটিং- সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির যতই উৎকর্ষতা ঘটছে, ততই বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবনধারা। আজ থেকে মাত্র দশ বছর আগেও মার্কেটিং পেশাজীবীরা যেভাবে চিন্তাভাবনা করতেন, ক্রেতাকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করতেন, এখন তার অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন ইন্টারনেট আর মোবাইল ডিভাইসভিত্তিক জীবনে ক্রেতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ আর পণ্য ক্রয়ের প্রক্রিয়া আগের চাইতেও অনেক জটিল, দ্রুত আর ভিন্ন। ফেসবুক, লিংকডইন, ইউটিউব, মোবাইল অ্যাপসহ অনেক প্রচার মাধ্যম এখন ধীরে ধীরে আমাদের চিরচেনা এবং প্রথাগত রেডিও, টেলিভিশন, খবরের কাগজ ইত্যাদির স্থান দখল করে নিচ্ছে। উদ্যোক্তা হন বা মার্কেটিং পেশাজীবী, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনাকে এই সকল নতুন নতুন মাধ্যম সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে এবং আপনার পণ্য বা সেবার সর্বোচ্চ প্রচার এবং প্রসারের লক্ষ্যে সুচিন্তিতভাবে এদের প্রয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল যুগে মার্কেটিং বইটি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম আর প্রচারের ক্ষেত্রে তাদের যথার্থ প্রয়োগ নিয়ে লেখা হয়েছে। এগুলোর বাইরে আরও কিছু চ্যানেল বা মাধ্যম রয়েছে যা আমাদের দেশের আর্থসামাজিক কারণে এখানে বিশেষ জনপ্রিয় নয় তাই তাদের উল্লেখ করা হয়নি। ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং- অন্যরা তাদের পণ্য বা সেবা নিয়ে যেভাবে মার্কেটিং করছে, আপনি যদি সেভাবে না করে ভিন্ন কিছু করেন, তাহলে আপনার জিনিসটিই সবার চোখে পড়বে। অনেক আয়োজন করে যেভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, আপনি চাইলে সহজেই সেটা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ক্রিয়েটিভিটির। কিন্তু অনেকেই নতুন কিছু করতে পারেন না কিংবা নতুন কিছু করার সাহস পান না। ভিন্ন পথে হাটার এ ব্যাপারটা অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেন না, কপি পেস্ট করেই চালিয়ে দেন। মানুষজন এ ব্যাপারে যেটা ধারণা করে- সৃজনশীলতা শুধু তাদের জন্যই, যাদেরকে নির্দিষ্টভাবে সৃজনশীল কাজ করতে হয় এবং অন্যরা যারা বিশ্লেষণাত্মক বা নিয়মতান্ত্রিক পদে আছেন তাদের তেমন প্রয়োজন নেই। সময়ের সাথে ধারণা ও প্রয়োগ দুটোরই ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে কিছু সফট স্কিল বিষয় রয়েছে যা চাইলে শেখা যায়। শেখার মাধ্যমে সৃজনশীলতারও উন্নয়ন করা যায়। যিনি সৃজনশীল কাজ করবেন তার জন্য যেমন শেখা বা জানার প্রয়োজন আছে, যিনি সরাসরি সৃজনশীল কাজ করবেন না কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্র সৃজনশীলতার ব্যাপারে কিছু সিন্ধান্ত দেবেন তারও সৃজনশীলতা সম্পর্কে বোঝার ব্যাপার আছে। ঠিক একই কারণে পুরো ক্রিয়েটিভ মার্কেটিংটাকে আপনি বিভিন্নভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।