1 / 220% OFF
Cash on delivery available
১৯২৮ সনের গ্রীষ্ম ঋতুতে, এই চিঠিগুলি আমি আমার কন্যা ইন্দিরাকে লিখেছিলাম। ইন্দিরা তখন হিমালয় শৈলে মুসৌরীতে ছিল, আর আমি ছিলাম নীচে এলাহাবাদে। দশ বৎসরের ছোট একটি মেয়েকে এই চিঠিগুলি ব্যক্তিগত ভাবে লেখা, কিন্তু আমার যে-সব বন্ধুবান্ধবের উপদেশ আমি মূল্যবান ব'লে মনে করি, তাঁরা বলেছেন এই চিঠিগুলির মধ্যে নাকি তাঁরা কিছু ভালো জিনিসের সন্ধান পেয়েছেন এবং আমার নিকট প্রস্তাব করেছেন, আমি যেন চিঠিগুলি বৃহত্তর পাঠক সমাজের নিকট উপস্থিত করি। অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের এই চিঠিগুলি কেমন লাগবে আমি জানি না, তবু এইটুকু আশা করি, যে-সব ছেলে-মেয়েরা এই চিঠিগুলি প'ড়বে তারা হয়তো ধীরে ধীরে চিন্তা ক'রতে আরম্ভ করবে যে, আমাদের এই পৃথিবী কতকগুলি বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ একটা পরিবার। আর এই ভরসাও করি-অবশ্য খানিকটা সঙ্কোচের সহিতই-যে, এই চিঠিগুলি লিখবার সময় আমি যেমন আনন্দ পেয়েছি তারই খানিকটা হয়তো আমার ঐ পাঠকবৃন্দও পাবে। চিঠিগুলি হঠাৎ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ গ্রীষ্ম ঋতুর অবসান হল। ইন্দিরাকেও শৈলাবাস থেকে নেমে আসতে হ'ল। ১৯২৯ এর গ্রীষ্ম ঋতুতে মুসৌরী অথবা অন্য কোন শৈলাবাসে আর ওর যাওয়া হয়নি। শেষের তিনখানা চিঠিতে একটা নূতন যুগের সূচনা মাত্র হয়েছে, কাজেই এই কয়খানা চিঠি এখানে স্থানোপযোগী হয় নাই ব'লেই মনে হবে, কিন্তু তৎসত্ত্বেও এইগুলিকে আমি এই পুস্তকে সন্নিবিষ্ট করেছি, কারণ, ওদের সমাপ্তির দিকে টেনে নেবার সুযোগ আর আমার কখনো হবে কিনা জানি না।