1 / 225% OFF
Cash on delivery available
আশফাক ওরকমই ছিল। নিশি ছিল তার বন্ধু, আমিও ছিলাম তার বন্ধু। আমাদের তিনজনের বন্ধুত্বের আনন্দ কোলাহলে দুই সপ্তাহ সময়টা যেন উড়ে চলে গেল। আমরা তখন ঢাকায় থাকি। আমার ছেলেবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার শখ, 'বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত' — এটাই আমার স্বপ্ন। আশফাকের ওইরকম কোনো স্বপ্ন কিংবা শখ ছিল না। তবে ওই সময় হঠাৎই আমার দেখাদেখি আশফাকেরও শখ হয়েছিল পাইলট হওয়ার।আমরা একইসাথে এয়ারফোর্সে পরীক্ষা দিলাম, টিকেও গেলাম। আমাদের খুশি দেখে কে! নিশির তার বাবার মতো টিচার হওয়ার শখ ছিল। সে ভর্তি হয়েছিল ঢাকা ভার্সিটিতে। আনন্দের মধ্যেও আমাদের দুঃখ ছিল কারণ আমরা দুজন দুদিকে ছিটকে গিয়েছিলাম। আমি ও আশফাক যশোরে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স একাডেমিতে ট্রেনিংয়ের জন্য চলে যাব, আর নিশি ঢাকায় থাকবে। ভাগ্য ভালো, বাবার চাকরি তখন ঢাকায়। তাই ছুটিতে ঢাকায় এলে নিশির সাথে দেখা হবে, এটা নিশ্চিত ছিলাম।যেদিন ট্রেনিং শুরু হবে, তার আগের দিন যশোর যাওয়ার কথা। ভীষণ অস্থির লাগছিল। নিশি তখন ওর মামার বাসায় মিরপুরে এসে উঠেছে। ভার্সিটির হলে সিট পায়নি। কিছুদিন মিরপুরে থাকবে, তারপর সিট পেলে হলে উঠবে। আমি কিছু না বলেই নিশির মামার বাসার সামনে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। ওকে কল দিয়ে বলেছিলাম, 'তাড়াতাড়ি বাইরে এসো, এক্ষুনি দেখা না হলে মরে যাব!'